খুলনা

সুন্দরবন

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনভূমি

কিছুই যখন আর ভালো লাগে না, তখন কোথাও বেড়িয়ে আসা চমৎকার এক পন্থা। আর বেড়াতে যাবার জায়গাটা যদি হয় সুন্দরবনের মত কোন এক স্থান, তবে তো সোনায় সোহাগা।  সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের আয়তন ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৫১% ভাগই সুন্দরবন। সুন্দরবনে আছে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৯১ প্রজাতির মাছ এবং ৩১৫ প্রজাতির পাখী। এদের মাঝে রয়াল বেঙ্গল টাইগার, নদীর কুমীর, সামুদ্রিক ডলফিন, কচ্ছপ, শুশুক এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখী বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ থেকে জানা যায়, সুন্দরবনে ৪৪০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এক থেকে দেড় লাখ হরিণ, ৪০-৫০ হাজার বানর, ২০-২৫ হাজার বন্য শূকর, ১৫০-২০০ কুমীর এবং ২০-২৫ হাজার শুশুক বসবাস করে।

দর্শণীয় স্থান

  • করমজল ফরেষ্ট ষ্টেশন
  • হাড়বাড়িয়া
  • কাটকা
  • হিরণ পয়েন্ট
  • কচিখালী
  • মান্দারবাড়ীয়া
  • টাইগার পয়েন্ট
  • টাইগার পয়েন্ট সি বিচ
  • জামতলা সি বিচ
  • দুবলার চর
  • তিনকোনা দ্বীপ
  • শরণখোলা
  • ছালকাটা
  • কালীরচর
  • মংলা বন্দর
  • সাত নদীর মুখ

 

যেসব প্রাণী গাছ দেখা দেখা যায়

  • রয়েল বেঙ্গল টাইগার (সৌভাগ্যবান হলে)
  • হরিণ
  • কুমিড়
  • বানর
  • বিভিন্ন প্রজাতির পাখি
  • মহিষ
  • সাপ
  • শেয়াল
  • শামুক-ঝিনুক
  • সুন্দরী গাছ
  • কেওড়া গাছ
  • গোলপাতার গাছ
  • মৌমাছির বড় বড় মৌচাক

হীরণ পয়েন্ট

বাংলাদেশের উপকূলবর্তী পাঁচটি জেলা নিয়ে অবস্থিত সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সমুদ্রমূখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কোকর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সুন্দরবনে যতগুলো বৈচিত্রময় স্থান রয়েছে হীরণ পয়েন্ট তার মধ্যে অন্যতম।

সুন্দরবনের হীরনপয়েন্টে গিয়ে  কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গুইসাপ অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য  দেখা যাবে। হীরণপয়েন্ট ছাড়াও টাইগার পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনী, হারবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলে যেতে পারে।

অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্যে ভরপুর বিস্ময়কর সুন্দরবনের হীরণপয়েন্ট দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বরাবরই প্রিয় ‘ট্যুর স্পট’। ‘বার্ড ওয়াচিং’, ‘এ্যাডভেঞ্চার ট্রেকিং’, ‘ক্যানেল ক্রুজিং’ সহ জীবজন্তু দেখা – একসাথে এতো কিছু উপভোগের সুযোগ বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনেই পাওয়া যায়। তাই প্রায় সারা বছর জুড়েই পর্যটকরা ভিড় করে থাকেন, মিশে যান প্রকৃতির এই অনবদ্য সৃষ্টির মাঝে।

কি কি আছে সুন্দরবনে হীরণপয়েন্টে

প্রায় ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল বিধৌত সুন্দরবনে রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গরান, কাকড়া, বাইন, হেতাল, টাইগার ফার্ন, ছন, গোলপাতাসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা-গুল্ম-লতা-অর্কিড-শৈবাল। বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবনে আছে অন্তত ২৬৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী। আছে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়া হরিণ, শুকর, লোনা পানির কুমির, অজগর, রাজগোখরা, কচ্ছপ, উদবিড়াল, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ নানা রকম প্রাণী। আছে ১৮৬ প্রজাতির পাখি। ২০০৪ সালের প্রাণী জরিপ অনুযায়ী সে সময়ে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছিল ৪৪০টি, হরিণ দেড় লাখ, বানর ৫০ হাজার, বন্যশূকর ২৫ হাজার, কুমির ২০০, উদবিড়াল ২৫ হাজার, ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, এক প্রজাতির লবস্টার ও ৪২ প্রজাতির মালাস্কা। এ বন থেকে প্রতিবছর মধু আহরিত হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার মণ। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। মৌয়াল, জেলে ও বাওয়ালি মিলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ তাদের জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

 

আকর্ষণীয় ট্যুর স্পট  হীরণপয়েন্ট

সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের হিরণপয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, শেখেরটেক প্রাচীন মন্দির, সাতক্ষীরা-বুড়িগোয়ালিনীর কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য- পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত স্পটে কুমির প্রজনন, অসুস্থ হরিণের পরিচর্যা, হাজার বছরের পুরোনো স্থাপনার ধ্বংসাবশেষসহ প্রকৃতির অপরূপ সব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। হীরণপয়েন্টে  এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কাঠের তৈরি ওয়াকওয়ে ধরে বনের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে বানর, হরিণ, গোসাপ, কাঁকড়া অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যও দেখতে পাওয়া যায়।

কাটকা বিচ

বাংলাদেশের উপকূলবর্তী পাঁচটি জেলা নিয়ে অবস্থিত সুন্দরবন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি। সমুদ্রমূখী সীমানা এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কোকর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সুন্দরবনে যতগুলো বৈচিত্রময় স্থান রয়েছে কাটকা তার মধ্যে অন্যতম।

 

দেখতে পাবেন

কাটকাতে ৪০ ফুট উচ্চ একটি টাওয়ার আছে যেখান থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত আছে এখানে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হতে ফেরার সময় হেঁটে  বীচের সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।  কাটকা থেকে কাচিখালী (বাঘের জায়গা) পর্যন্ত প্রচুর ঘাস জন্মে বলে অনেক জীবজন্তুর আনাগোনা রয়েছে।  এখানে প্রচুর জীবজন্তও দেখা যায়।

 

সুন্দরবন জামতলা সৈকত

কটকা’র কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান জামতলা। জামতলায় রয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। যেখান থেকে বিস্তীর্ণ ছনক্ষেতে হাজার হাজার হরিণের ছোটাছুটি আবার কখনও রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে। কচিখালী আর কটকার ঠিক মধ্যবর্তী স্থানের নাম বাদামতলা। বাদামতলা অত্যন্ত নির্জন এক সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতটি জামতলা সৈকত নামেও পরিচিত। সিডরের আঘাতের চিহ্ন এই সবুজে ঘেরা অপরুপ সৌন্দর্যের সৈকতটিতে এখনো দেখা যায়। মংলা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে কচিখালী। সমুদ্র সৈকতের প্রধান আকর্ষণ। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে কচিখালী সমুদ্র সৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালী স্টেশন পর্যন্ত হাঁটা পথ। এ পথের পাশে ঘন অরণ্যে বাঘ, হরিণ, শূকর, বিষধর সাপ ইত্যাদির এক ছমছম পরিবেশ যা দুঃসাহসী পর্যটকদের জন্য মনোমুগ্ধকর। এ সৈকতে প্রায়ই বাঘের অনাগোনা দেখা যায়।

মান্দারবাড়িয়া সৈকত

মান্দারবাড়িয়ার একদিকে সুন্দরবন অপরদিকে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন যে কোন মানুষকেই দেবে অনির্বচনীয় আনন্দ। মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত প্রকৃতির অপরূপা সুন্দরবন ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের এক রূপসী কন্যা-যা এখনও কিছুটা অনাবিস্কৃত এবং অস্পর্শিত। এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর থেকে মান্দারবাড়িয়া ৭৫/৮০ কিলোমিটার দুরে। সাতক্ষীরা থেকে বুড়িগোয়ালিনীর দুরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে যাওয়া যায়, তার পরের ৭৫/৮০ কিলোমিটার যেতে হবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে। এই ৭৫/৮০ কিলোমিটার পথের পুরাটাই সুন্দরবনের বুক চিরে যাওয়া বিভিন্ন নদী।
সুন্দরবনের দক্ষিণে, কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি চর। নাম তার দুবলার চর। কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে এটি একটি বিচ্ছিন্ন চর। দ্বীপটি মূলত জেলে গ্রাম। মাছ ধরার সঙ্গে চলে শুঁটকি শুকানোর কাজ। লঞ্চ বা ট্রলারে করে শঅথ্য ৬/৭ ঘণ্টা দুরত্ব।

দুবলার চর:

দুবলার চর সুন্দরবনের অন্তর্গত একটি ছোট্ট চর। এই চরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ছোট নদী; সেসব নদী মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। দুবলার চর একটু ভেতরে অবস্থিত বিধায় কোনো দশনার্থী সহজে এই চরে প্রবেশ করতে পারে না।

দুবলার চরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অপরূপ মন মাতানো দৃশ্য সব পর্যটককে বিমোহিত করে। দুবলার চরের লোকসংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। অধিকাংশই পেশায় মৎস্য শিকারি বা জেলে। অনেকে আবার কাঠ কিংবা বাঁশের ব্যবসাও করে। দুবলার চরের কিছু বাসিন্দা নৌকা চালানোয় খুবই পারদর্শী। তারা পর্যটকদের নৌকায় করে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখায়। দুবলার চরের চারদিকে রয়েছে অসংখ্য সুন্দরী ও কেওড়া গাছ। যে গাছগুলো তার গভীর মায়া-মমতায় জড়িয়ে রেখেছে দুবলার চরের প্রকৃতিকে। দুবলার চর অন্য যে কারণে বেশি বিখ্যাত তা হলো এর শুঁটকি মাছ। এই চরের শুঁটকি মাছের মধ্যে রয়েছেথ রূপচাঁদা, কোরাল, লইট্যা, ফাইস্যা ইত্যাদি।

দুবলার চরে রয়েছে বিচিত্র ধরনের প্রাণী ও পশুপাখি। পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণী হরিণের বসবাস রয়েছে দুবলার চরে। হরিণগুলো দুবলার চরের গহীনে বাস করে। এ কারণে শিকারিরা সহজে হরিণ শিকার করতে পারে না। ভয়ঙ্কর হলেও সত্য যে, দুবলার চরে রয়েছে ভয়াবহ জলদস্যু। তাই এখানে গেলে যথাযথ নিরাপত্তা নিয়ে এখানে যাওয়া উচিত। কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও দুবলার চর বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।

 

যাতায়াত ব্যবস্থা এবং খরচ:

ঢাকা থেকে সরাসরি খুলনা হয়ে বা মংলা থেকে যাওয়া যায় সুন্দরবন। তবে সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চেও যাওয়া যায়। কিন্তু সেটি অনেক খরচ এবং সময়সাপেক্ষ।

ঢাকা থেকে বাসে ও ট্রেনে উভয়েই খুলনা যাওয়া যায়। ট্রেনে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৪৬৫ টাকা। নন-এসি বাস ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা এবং এসি ১০০০-১২০০ টাকা। ঢাকার গাবতলি, কল্যাণপুর, আসাদ গেট, কলাবাগান, সায়দাবাদ এসব জায়গা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। সোহাগ, হানিফসহ বেশ কয়েকটা ভালো বাস সার্ভিস রয়েছে খুলনায়।

সুন্দরবনে বেশ কয়েকটা উপায়ে ঘুরতে পারেন। আপনার টিম যদি ছোট হয় (৫-১৫ জন) তাহলে একটা ট্রলার ভাড়া করতে পারবেন। ট্রলারেই থাকা, খাওয়া এবং ঘুমানোর ব্যবস্থা থাকে। তবে একটু কম অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হলে এবং নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকলে এগুলোতে না গেলেও পারেন। সেক্ষেত্রে ছোট টিম বা ২-৩ জনের জন্য ভালো উপায় হচ্ছে বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানিগুলোর অফার।

এসব ট্যুরিজম কোম্পানিগুলো সপ্তাহে বৃহস্পতি-শনিবার এবং সোম-বুধবার প্যাকেজ দিয়ে থাকে। সাধারন ইকোনোমি প্যাকেজ আপনি ৭০০০-৯০০০ পর্যন্ত পাবেন। আর একটু বিলাবহুলভাবে থাকতে চাইলে জনপ্রতি গুনতে হবে ১২০০০-১৮০০০ টাকা পর্যন্ত। এই খরচের মধ্যে আপনার লঞ্চভাড়া, ফুয়েল, খাবার, নাস্তা, প্রত্যেকের সরকারী পাশ, রেভিনিউ, গাইড, গানম্যান, বনে ঘুরার ছোট নৌকা সহ অন্যান্য সব খরচ ইনক্লুড থাকে (অনেক ক্ষেত্রে ঢাকা-খুলনা-ঢাকা বাস টিকিটও থাকে)।

বড় গ্রুপ অর্থাৎ ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত যেতে চাইলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে একটা আস্ত লঞ্চই ভাড়া করে ফেলা। সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিন সাইজেরই লঞ্চ পাওয়া যায়। ছোট লঞ্চে ৩০-৪০ জন, মাঝারি লঞ্চে ৬০-৭০ জন এবং বড় লঞ্চে ৯০-১০০ জন অনায়াসে থাকতে এবং ঘুমাতে পারবে। এসব ক্ষেত্রে মাথাপিছু খরচও অনেকটা কম পড়ে।

বড় টিম নিয়ে যাওয়ার সময় আপনারা চাইলে পুরো দায়িত্ব ট্যুর অপারেটরকে দিয়ে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটর আপনার বাজেট অনুযায়ী মাথাপিছু একটা খরচ নির্ধারণ করবে এবং সে অনুযায়ী সব ব্যবস্থা করে দিবে। তবে শুধু লঞ্চ ভাড়া নিয়ে বাকি সব কাজ নিজেরাও আয়োজন করা যায়। সেক্ষেত্রে বাবুর্চি ঠিক করা, বাজার করা, বনবিভাগের পারমিশন এসব কাজ নিজেদেরই করতে হবে। এসব কাজে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ না হলে এই রাস্তায় না যাওয়াটাই ভালো।

সুন্দরবন ঘুরতে গেলে মূলত দুটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখবেন। এক- দেখার জায়গা এবং দুই- খাবার। তাই এ দুইটি বিষয় ট্যুর অপারেটরের সাথে ভালোভাবে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনাকে কোন লঞ্চে নিয়ে যাবে, কোন কোন জায়গা ঘুরাবে, কোন বেলায় কি খাবার দিবে এসব তথ্য ভালোভাবে জানুন। পারলে টাকা দেয়ার আগে একটি লিখিত চুক্তিও করে ফেলুন। সম্ভব হলে নির্ধারিত লঞ্চটিও একবার দেখে নিতে পারেন।

 

0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes
Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

Close
Close