সিলেট

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়

নীলের রাজ্য টাঙ্গুয়ার হাওড়

ছবি টা কি বাংলাদেশের? এমন সুন্দর পরিবেশ বাংলাদেশে আছে? হ্যা ভাই আছে। আপনি যদি টাঙ্গুয়ার হাওড়ে গিয়ে থাকেন, তাইলে নিঃসন্দেহে আমার সাথে একমত হবেন, আর যদি না গিয়ে থাকেন, তাইলে অনেক কিছু মিস করেছেন।

কোথাও যেতে হলে সবার ই ব্যাসিক তিনটা প্রশ্ন থাকে।

কখন যাবেন, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন বা কোথায় গিয়ে উঠবেন, কত খরচ হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

একে একে সব গুলার উত্তর দিতেছি।

কখন যাবেনঃ

যেহেতু বর্ষাকালে পানি বেশি এবং ঘোলা থাকে, আকাশ ও পরিষ্কার থাকে না, সেহেতু বর্ষাকালে গিয়ে আপনি হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন না। এজন্য সেখানে যাওয়ার বেস্ট সময় সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাস। এসময় শরতের আকাশ থাকে নীল, পানি থাকে শান্ত, আর পরিবেশ?

অসাধারণ!

কিভাবে যাবেনঃ

প্রথমে আরামবাগ অথবা ফকিরাপুল থেকে টিকেট নিবেন সুনামগঞ্জ এ যাবার। আপনার খরচ হবে ৫৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ নেমে আপনাকে যেতে হবে তাহিরপুর। সেজন্য জনপ্রতি আপনাকে ৯০ টাকা লেগুনাভাড়া গুনতে হবে।

আপনি যদি হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাহলে তাহিরপুর নেমে আপনাকে দুইরাত নৌকাতে থাকার প্রস্তুতি নৌকা ভাড়া করতে হবে। দুই দিনের জন্য নৌকা ভাড়া ৩৫০০-৪০০০ টাকা। আপনি ৩-৪ ঘন্টার জন্য অথবা ১ দিনের জন্য ঘুরতে চাইলে আপনাকে ৪০০-৫০০ টাকা অথবা ২০০০ টাকা গুনতে হতে পারে।

নৌকায় উঠার আগে আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো দুইদিনের জন্য পর্যাপ্ত স্ন্যাক্স, চাল ডাল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে নিয়ে উঠবেন। আপনি বললে মাঝি ভাই ই একটা রাঁধুনি নিয়ে নেবেন। এজন্য আপনাকে ৫০০ টাকা এক্সট্রা খরচ করতে হবে।

তাহিরপুর থেকে নৌকা ছাড়ার দুই ঘন্টা পর মাঝি ভাইকে বললেই সে আপনাকে নিয়ে যাবে ওয়াচ টাওয়ার। ততক্ষণে আপনি পৌঁছে গেছেন নীল সমুদ্রে। যেদিকে তাকাবেন শুধুই নীল আর নীল। হাওরের পানি স্ফটিকের মত স্বচ্ছ যেখানে পানির তলদেশ পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। ওয়াচ টাওয়ার থেকে আপনি ৩৬০ ডিগ্রি পরিবেশ টা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন আর ভাববেন, আপনি আপনার সময় আর টাকার অন্তত একবার হলেও সদ্ব্যবহার করতে পেরেছেন।

ওয়াচ টাওয়ারের পাশের স্বচ্ছ নীল পানিতে গোসল ও করে নিতে পারেন এর মাঝে।  অতঃপর আপনার পরবর্তী গন্তব্য ট্যাকেরঘাট। পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় আপনার বিকাল হয়ে যাবে। আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখুন। ট্যাকেরঘাট জায়গা টি হলো বিসিঅাইসি এর একটি পরিত্যক্ত চুনাপাথর প্রকল্প। জায়গা টা অনেকটা পরিত্যক্ত শহর এর মত। রেললাইন, বৈদ্যুতিক খুটি সবই আছে, কিন্তু মানুষ নাই। প্রকল্পের পাশেই আছে ছবির মত সুন্দর নীলাদ্রি লেক। প্রকল্পের পাশেই আছে বাজার, বৈদ্যুতিক সংযোগ।

কিছু কেনার থাকলে কিনে নিতে পারেন। এরপর যখন রাত নামবে, চারপাশের আলো যখন নিভে যাবে, তখন আপনি দেখবেন এক আকাশ ভরা কোটি কোটি তারা যেন হঠাত করে আপনার উপর নেমে এসেছে, লক্ষ লক্ষ জোনাকি আলো দিয়ে আপনার পথ দেখাচ্ছে। মৃদুমন্দ বাতাস আপনার মনে শিহরণ যোগাচ্ছে।আর রাতের বেলা খোলা আকাশের নিচে নৌকার ছাদে ঘুমানো? তুলনাহীন! তখন আপনি বুঝবেন ইট কাঠের জঞ্জালে ভরা যান্ত্রিক শহরে থেকে পৃথিবীর আসল রূপ থেকে আপনি বঞ্চিত।

পরের দিন আপনার গন্তব্য ট্যাকেরঘাটের আশপাশের চার পাঁচটা ঝর্ণা আর জাদুকাটা নদী । এজন্য আপনাকে আগের দিন ই বাইক ঠিক করে রাখতে হবে। মাঝি ভাইকে বললেই সে বাইক ঠিক করে দিবে। এজন্য আসা যাওয়ার জন্য আপনাকে জনপ্রতি ১০০ টাকা খরচ হবে।

সেখান থেকে আপনি দুপুরের মধ্যে সবগুলা জায়গা ঘুরবেন। জাদুকাটা নদীর সৌন্দর্য দেখবেন, যেখানে নদীর এপাশে বাংলাদেশ, ওপারে ইন্ডিয়া। ইচ্ছা করলে বরফ শীতল পানিতে গোসল সেরে নিতে পারবেন। গলা সমান ঠাণ্ডা পানিতে ডুব দিয়ে সামনে নিল আকাশের সাথে দুরের ইন্ডিয়া এর বড় বড় পাহাড় গুলা দেখার মজাই আলাদা। অতঃপর আশপাশের ঝর্ণাগুলা ঘুরে দুপুরের দিকে রওনা দিবেন যদি রাতের বাস ধরতে চান।

কত খরচ হতে পারেঃ

আপনি একা অথবা দুই তিনজন গেলে অনেক খরচ পড়বে, সেই হিসেবে ৮-১০ জন গেলে আপনার খরচ পড়বে তুলনামূলক কম, ৩০০০ টাকা এর মধ্যেই ঘুরে আসতে পারবেন।

হিসাবঃ

যাওয়া আসার বাস ভাড়া: ১১০০ টাকা

যাওয়া আসা লেগুনা ভাড়া : ৯০+৯০= ১৮০ টাকা

নৌকা ভাড়া : ৪০০০ টাকা (জনপ্রতি ৪০০, দশ জনের হিসাবে)

খাবার বিল : সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০

বাইক ভাড়া: ১০০

আর আনুষঙ্গিক খরচ মিলে ২৭০০-২৮০০ টাকা এরর বেশি খরচ হয় না ৮-১০ জন গেলে।

যা যা অবশ্যই সাথে নিবেন:

  • গরম কাপড়
  • ছাতা
  • সানগ্লাস
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • হ্যান্ডওয়াশ
  • সাবান
  • টর্চ
  • লাইফ জ্যাকেট
0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes
Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close